চিকিৎসা, ভ্রমণ, ব্যবসা, পড়াশোনা কিংবা আত্মীয়-স্বজনের সাথে দেখা করা নানা কারণে প্রতিদিন হাজার হাজার বাংলাদেশি ভারতে যাওয়ার জন্য ভিসার আবেদন করেন। আর এই আবেদন জমা দেওয়ার প্রধান ঠিকানা হলো ভারতীয় ভিসা আবেদন কেন্দ্র, যা সংক্ষেপে IVAC (Indian Visa Application Centre) নামে পরিচিত। কিন্তু নতুন আবেদনকারীদের অনেকেই জানেন না নিকটতম কেন্দ্র কোথায়, আবেদনের ফি কত, অ্যাপয়েন্টমেন্ট কীভাবে নিতে হয়, কী কী কাগজপত্র লাগে কিংবা দালালদের প্রতারণা থেকে কীভাবে বাঁচা যায়। এই বিস্তারিত গাইডে আমরা ভারতীয় ভিসা আবেদন কেন্দ্র সম্পর্কে প্রয়োজনীয় সব তথ্য ধাপে ধাপে তুলে ধরব।
ভারতীয় ভিসা আবেদন কেন্দ্র ঠিকানা
ভারতীয় ভিসা আবেদন কেন্দ্র হলো বাংলাদেশে অবস্থিত ভারতীয় হাইকমিশনের পক্ষে ভিসা আবেদন গ্রহণ ও প্রাথমিক প্রক্রিয়াকরণের জন্য নির্ধারিত সেবাকেন্দ্র। এই কেন্দ্রগুলো ভারতীয় হাইকমিশনের নির্দেশনায় পরিচালিত হয় এবং এগুলোর ব্যবস্থাপনার দায়িত্বে রয়েছে স্টেট ব্যাংক অব ইন্ডিয়া (SBI)। বাংলাদেশে IVAC-এর কার্যক্রম বিশ্বের অন্যতম বৃহৎ ভিসা আবেদন কার্যক্রম হিসেবে পরিচিত।
IVAC-এর প্রধান কাজ হলো:
- আবেদনকারীর পাসপোর্ট ও ভিসা আবেদনপত্র গ্রহণ করা
- প্রয়োজনীয় কাগজপত্র যাচাই করা
- বায়োমেট্রিক তথ্য (আঙুলের ছাপ ও ছবি) সংগ্রহ করা
- আবেদন ভারতীয় হাইকমিশনে প্রক্রিয়াকরণের জন্য পাঠানো
- ভিসা অনুমোদনের পর পাসপোর্ট আবেদনকারীর কাছে হস্তান্তর করা
মনে রাখা জরুরি, ভিসা দেওয়া বা না দেওয়ার সিদ্ধান্ত IVAC নেয় না। এই সিদ্ধান্ত ভারতীয় হাইকমিশনের একচেটিয়া এখতিয়ার। IVAC কেবল আবেদন গ্রহণ ও পাসপোর্ট ফেরত দেওয়ার সেবা প্রদান করে।
বাংলাদেশে কোথায় কোথায় ভারতীয় ভিসা আবেদন কেন্দ্র রয়েছে
আগে ভারতীয় ভিসার জন্য অনেককে ঢাকায় আসতে হতো, কিন্তু বর্তমানে দেশের বিভিন্ন জেলায় IVAC চালু থাকায় আবেদনকারীরা নিজ এলাকার কাছাকাছি কেন্দ্র থেকেই সেবা নিতে পারেন। ভারতীয় হাইকমিশনের সূত্র অনুযায়ী বাংলাদেশে IVAC-এর সংখ্যা এখন ষোলোর বেশি এবং নতুন কেন্দ্র সংযোজনের ধারা অব্যাহত রয়েছে। কুষ্টিয়ায় ষোড়শ IVAC উদ্বোধনের তথ্যও প্রকাশিত হয়েছে।
ঢাকা
রাজধানীতে সবচেয়ে বড় ও ব্যস্ত কেন্দ্রটি অবস্থিত বারিধারার যমুনা ফিউচার পার্কে। ভারতীয় হাইকমিশন প্রকাশিত ঠিকানা অনুযায়ী এটি যমুনা ফিউচার পার্কের সাউথ কোর্টের জি১ ফ্লোরে, প্রগতি সরণি, বারিধারা, ঢাকা-১২২৯-এ অবস্থিত। যমুনা ফিউচার পার্কের এই কেন্দ্রটিকে বিশ্বের বৃহত্তম ভারতীয় ভিসা আবেদন কেন্দ্র বলে বর্ণনা করা হয়ে থাকে। এখানে পাসপোর্ট গ্রহণের সময় বাংলাদেশি পাসপোর্টধারীদের জন্য সকাল ৯টা থেকে বিকাল ৩টা ৩০ মিনিট এবং বিদেশি পাসপোর্টধারীদের জন্য সকাল ৯টা থেকে দুপুর ১টা। পাসপোর্ট ডেলিভারির সময় সকাল ১০টা থেকে বিকাল ৪টা।
বিভাগীয় ও অন্যান্য শহর
ঢাকার বাইরে যেসব শহরে ভারতীয় ভিসা আবেদন কেন্দ্র চালু আছে, তার মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো:
- চট্টগ্রাম: শহরের সিডিএ অ্যাভিনিউ এলাকায় অবস্থিত। চট্টগ্রাম কেন্দ্রে পাসপোর্ট গ্রহণের সময় সাধারণত সকাল ৯টা থেকে দুপুর ১টা।
- রাজশাহী
- সিলেট
- খুলনা
- বরিশাল: কাশীপুর, ইছাকাঠি এলাকার মীর টাওয়ারে অবস্থিত।
- যশোর: নড়াইল রোড সংলগ্ন এলাকায় অবস্থিত।
- সাতক্ষীরা: ইটাগাছা, বাঙ্গালার মোড় এলাকায় অবস্থিত।
- নোয়াখালী (চৌমুহনী): নূরুল হক রোড, গোরীপুর এলাকায় অবস্থিত।
- কুষ্টিয়া: জেলা সমিতি ভবনে অবস্থিত।
এছাড়াও অন্যান্য জেলায় কেন্দ্র রয়েছে। কেন্দ্র সংখ্যা ও ঠিকানা সময়ের সাথে পরিবর্তিত হতে পারে, তাই যাওয়ার আগে অবশ্যই অফিসিয়াল ওয়েবসাইট ivacbd.com-এ আপনার নিকটতম কেন্দ্রের সর্বশেষ ঠিকানা ও সময়সূচি দেখে নিন।
ভারতীয় ভিসার ফি কত?
ভারতীয় ভিসার ফি নিয়ে সবচেয়ে বেশি বিভ্রান্তি দেখা যায়, তাই বিষয়টি পরিষ্কারভাবে বোঝা দরকার।
ভারত সরকার বাংলাদেশি নাগরিকদের কাছ থেকে কোনো ভিসা ফি নেয় না। ভারতীয় ভিসা বাংলাদেশি নাগরিকদের জন্য বিনামূল্যে, এটি ভারতীয় হাইকমিশনের বর্তমান নীতি।
তবে আবেদন প্রক্রিয়াকরণের জন্য IVAC একটি সার্ভিস চার্জ নেয়। বিগত কয়েক বছরে পরিচালন ব্যয় বৃদ্ধির কারণে ২০২৫ সালের ১০ আগস্ট থেকে এই প্রক্রিয়াকরণ ফি সংশোধন করে ১,৫০০ টাকা (সব চার্জসহ) নির্ধারণ করা হয়েছে। এটি ভিসার ফি নয়, বরং আবেদন গ্রহণ ও পরিচালনার সার্ভিস চার্জ।
অতিরিক্ত টাকা চাইলে সতর্ক হোন
IVAC কর্তৃপক্ষের সুস্পষ্ট ঘোষণা অনুযায়ী, ১,৫০০ টাকার এই ফি ছাড়া অ্যাপয়েন্টমেন্ট স্লট পেতে বা দ্রুত ভিসা পেতে আর কোনো অতিরিক্ত অর্থ পরিশোধের প্রয়োজন নেই। অ্যাপয়েন্টমেন্টের জন্য অতিরিক্ত টাকা চাওয়া বা দ্রুত ডেলিভারির নামে বাড়তি অর্থ দাবি করা সম্পূর্ণ প্রতারণা। এ ধরনের প্রস্তাব পেলে দালালকে এড়িয়ে চলুন এবং সরাসরি অফিসিয়াল চ্যানেলে যোগাযোগ করুন।
ভারতীয় ভিসার ধরন
আপনি যে উদ্দেশ্যে ভারতে যেতে চান, তার ওপর নির্ভর করে ভিসার ধরন নির্ধারিত হয়। বাংলাদেশিদের জন্য সাধারণত যেসব ভিসা ক্যাটাগরিতে আবেদন করা হয়:
- মেডিকেল ভিসা (M): চিকিৎসার জন্য ভারতে যাওয়ার ক্ষেত্রে। বাংলাদেশিদের মধ্যে এটি সবচেয়ে জনপ্রিয় ক্যাটাগরিগুলোর একটি।
- মেডিকেল অ্যাটেনডেন্ট ভিসা (MX): রোগীর সাথে থাকা পরিচর্যাকারীর জন্য।
- ট্যুরিস্ট ভিসা (T): ভ্রমণ ও পর্যটনের উদ্দেশ্যে।
- বিজনেস ভিসা (B): ব্যবসায়িক কাজ, মিটিং বা বাণিজ্যিক সফরের জন্য।
- স্টুডেন্ট ভিসা (S): ভারতের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে পড়াশোনার জন্য।
- এন্ট্রি ভিসা (X): পরিবারের সদস্য বা নির্দিষ্ট ক্যাটাগরির ব্যক্তিদের জন্য।
- কনফারেন্স ভিসা: আন্তর্জাতিক সম্মেলন, সেমিনার বা কর্মশালায় অংশ নেওয়ার জন্য।
- ভিজিট ভিসা: আত্মীয়স্বজনের সাথে দেখা করার উদ্দেশ্যে।
ভিসার ধরন অনুযায়ী প্রয়োজনীয় কাগজপত্র ও যাচাই প্রক্রিয়ায় কিছুটা পার্থক্য থাকে। তাই আবেদনের আগে নিজের উদ্দেশ্যের সাথে মিলিয়ে সঠিক ক্যাটাগরি বেছে নেওয়া জরুরি।
ভারতীয় ভিসার আবেদন প্রক্রিয়া
ভারতীয় ভিসার আবেদনের সম্পূর্ণ প্রক্রিয়া মূলত অনলাইন ও অফলাইন—দুই অংশে বিভক্ত। প্রথমে অনলাইনে ফরম পূরণ করতে হয়, তারপর নির্ধারিত তারিখে সশরীরে IVAC-এ গিয়ে জমা দিতে হয়।
ধাপ ১: অনলাইনে আবেদনপত্র পূরণ
ভারতীয় হাইকমিশনের নির্দেশনা অনুযায়ী সব ব্যক্তিগত আবেদনকারীকে অনলাইন আবেদন লিংকের মাধ্যমে ভিসার আবেদন করতে হয়। সঠিকভাবে পূরণ ও সফলভাবে জমা দেওয়ার পর পূর্ণাঙ্গ আবেদনপত্রটি প্রিন্ট করে স্বাক্ষর করতে হয়। এই আবেদনপত্র নির্ধারিত সাক্ষাতের দিনে প্রয়োজনীয় সহায়ক কাগজপত্রসহ IVAC-এ জমা দিতে হবে।
অনলাইন ফরম পূরণের সময় কিছু বিষয় খেয়াল রাখুন:
- পাসপোর্টে যেভাবে নাম লেখা আছে, হুবহু সেভাবে লিখুন
- জন্মতারিখ, পাসপোর্ট নম্বর ও মেয়াদ সঠিকভাবে দিন
- ভ্রমণের উদ্দেশ্য ও অবস্থানের ঠিকানা স্পষ্ট করে লিখুন
- আপলোড করা ছবি নির্ধারিত মাপ ও মানদণ্ড মেনে হতে হবে
- ফরম জমা দেওয়ার পর প্রাপ্ত রেফারেন্স নম্বরটি সংরক্ষণ করুন
ধাপ ২: ভিসা প্রক্রিয়াকরণ ফি পরিশোধ ও অ্যাপয়েন্টমেন্ট বুকিং
অনলাইন ফরম পূরণের পর IVAC-এর সিস্টেমের মাধ্যমে নির্ধারিত প্রক্রিয়াকরণ ফি পরিশোধ করতে হয় এবং আপনার পছন্দের কেন্দ্রে অ্যাপয়েন্টমেন্ট তারিখ ও সময় বেছে নিতে হয়। সাধারণত ভিসার ধরন ও কেন্দ্রের চাপের ওপর ভিত্তি করে উপলব্ধ স্লটের সংখ্যা কম-বেশি হয়। জরুরি চিকিৎসা ও অন্যান্য জরুরি প্রকৃতির ভিসার জন্য ঢাকা, চট্টগ্রাম, রাজশাহী, সিলেট ও খুলনা—এই পাঁচটি কেন্দ্রে সীমিত সংখ্যক অ্যাপয়েন্টমেন্ট স্লট চালু রাখা হয়েছে।
অ্যাপয়েন্টমেন্ট কনফার্মেশন স্লিপ প্রিন্ট করে সংরক্ষণ করুন, কারণ কেন্দ্রে প্রবেশের সময় এটি দেখাতে হবে।
ধাপ ৩: প্রয়োজনীয় কাগজপত্র প্রস্তুত করা
অ্যাপয়েন্টমেন্টের দিনের আগেই সব কাগজপত্র গুছিয়ে রাখুন। ভিসার ধরনভেদে তালিকা কিছুটা ভিন্ন হলেও সাধারণভাবে যা যা প্রয়োজন হতে পারে:
- মেয়াদ আছে এমন মূল পাসপোর্ট (পর্যাপ্ত ফাঁকা পাতাসহ) ও পাসপোর্টের ফটোকপি
- অনলাইনে পূরণ করা স্বাক্ষরিত আবেদনপত্রের প্রিন্ট
- নির্ধারিত মাপের সাম্প্রতিক পাসপোর্ট সাইজ ছবি (সাদা পটভূমিতে)
- অ্যাপয়েন্টমেন্ট কনফার্মেশন স্লিপ ও ফি পরিশোধের রসিদ
- জাতীয় পরিচয়পত্র বা জন্মনিবন্ধন সনদের কপি
- ভ্রমণের উদ্দেশ্য প্রমাণের কাগজ, যেমন—মেডিকেল ভিসার ক্ষেত্রে ভারতীয় হাসপাতালের অ্যাপয়েন্টমেন্ট লেটার ও চিকিৎসা সংক্রান্ত রিপোর্ট; ট্যুরিস্ট ভিসার ক্ষেত্রে ভ্রমণ পরিকল্পনা বা হোটেল বুকিং; ব্যবসায়িক ভিসার ক্ষেত্রে ভারতীয় প্রতিষ্ঠানের আমন্ত্রণপত্র
- আর্থিক সামর্থ্যের প্রমাণ, যেমন—ব্যাংক স্টেটমেন্ট
- পেশাগত পরিচয়ের প্রমাণ, যেমন—চাকরির প্রত্যয়নপত্র, ব্যবসার ট্রেড লাইসেন্স বা শিক্ষার্থীদের জন্য প্রতিষ্ঠানের পরিচয়পত্র
পরামর্শ: যেহেতু প্রয়োজনীয় কাগজের তালিকা ভিসার ধরন ও সময়ের সাথে পরিবর্তিত হতে পারে, আবেদনের আগে অবশ্যই ভারতীয় ভিসা আবেদনের অফিসিয়াল সাইটে আপনার নির্দিষ্ট ক্যাটাগরির সর্বশেষ চেকলিস্ট দেখে নিন।
ধাপ ৪: IVAC-এ সশরীরে উপস্থিতি ও বায়োমেট্রিক
নির্ধারিত অ্যাপয়েন্টমেন্টের দিনে যথাসময়ে কেন্দ্রে হাজির হন। সাধারণত নির্ধারিত সময়ের কিছু আগে পৌঁছানো ভালো। কেন্দ্রে যা যা হবে:
- নিরাপত্তা তল্লাশি ও কাগজপত্র প্রাথমিক যাচাই
- আবেদনপত্র ও সহায়ক কাগজপত্র জমা
- বায়োমেট্রিক তথ্য প্রদান (আঙুলের ছাপ ও ছবি)
- পাসপোর্ট জমা দেওয়া এবং জমা দেওয়ার রসিদ সংগ্রহ করা
যাচাইয়ের সময় কোনো কাগজে ত্রুটি থাকলে কর্মকর্তারা তা জানিয়ে দেবেন। সব তথ্য সঠিক থাকলে আবেদন গ্রহণ করা হয় এবং আপনাকে একটি রসিদ দেওয়া হয়। এই রসিদ সাবধানে সংরক্ষণ করুন, কারণ পাসপোর্ট ফেরত নেওয়ার সময় এটি প্রয়োজন হবে।
ধাপ ৫: ভিসা প্রক্রিয়াকরণ ও পাসপোর্ট সংগ্রহ
আবেদন গ্রহণের পর তা ভারতীয় হাইকমিশনে প্রক্রিয়াকরণের জন্য পাঠানো হয়। প্রক্রিয়াকরণে কত সময় লাগবে তা ভিসার ধরন, আবেদনের জটিলতা এবং সংশ্লিষ্ট সময়ের চাপের ওপর নির্ভর করে। ভিসার সিদ্ধান্ত হয়ে গেলে পাসপোর্ট IVAC-তে ফেরত আসে এবং আপনি রসিদ দেখিয়ে সেখান থেকে তা সংগ্রহ করতে পারেন। ঢাকা কেন্দ্রে পাসপোর্ট ডেলিভারি সময় সাধারণত সকাল ১০টা থেকে বিকাল ৪টা, আর চট্টগ্রামসহ কিছু কেন্দ্রে ডেলিভারি সময় বিকাল ২টা ৩০ মিনিট থেকে বিকাল ৪টা।
ভিসা পাওয়ার পর পাসপোর্টে ভিসার ধরন, মেয়াদ ও প্রবেশের সংখ্যা সঠিক আছে কিনা তা সঙ্গে সঙ্গে যাচাই করে নিন। কোনো ভুল থাকলে সঙ্গে সঙ্গে কেন্দ্রে জানান।
অ্যাপয়েন্টমেন্ট নিয়ে সাধারণ সমস্যা ও সমাধান
অ্যাপয়েন্টমেন্ট স্লট পাওয়া অনেক আবেদনকারীর জন্যই একটি বড় চ্যালেঞ্জ। প্রয়োজনের তুলনায় স্লটের সংখ্যা সীমিত হওয়ায় সিস্টেম খোলার সাথে সাথেই অনেক সময় স্লট শেষ হয়ে যায়। এই পরিস্থিতিতে কিছু কার্যকর পরামর্শ:
- নিয়মিত সিস্টেম দেখুন: অফিসিয়াল ওয়েবসাইটে স্লট খোলার ঘোষণা ও নোটিশ নজরে রাখুন।
- সম্ভব হলে নিকটবর্তী অন্য কেন্দ্র বিবেচনা করুন: আপনার এলাকার কেন্দ্রে স্লট না থাকলে পাশের জেলার কেন্দ্রে খালি স্লট থাকতে পারে।
- জরুরি চিকিৎসার ক্ষেত্রে বিশেষ স্লট: মেডিকেল ইমার্জেন্সি থাকলে প্রয়োজনীয় প্রমাণসহ জরুরি স্লটের সুযোগ নিতে পারেন।
- দালালের ফাঁদে পা দেবেন না: অ্যাপয়েন্টমেন্ট বিক্রির নামে যারা অতিরিক্ত টাকা চায়, তারা প্রতারক। অফিসিয়াল ঘোষণা অনুযায়ী ১,৫০০ টাকার প্রক্রিয়াকরণ ফি ছাড়া স্লটের জন্য আলাদা কোনো টাকা লাগে না।
- সঠিক ইন্টারনেট সংযোগ ও ডিভাইস ব্যবহার করুন: স্লট খোলার সময় সিস্টেমে চাপ বেশি থাকে, তাই নিরবচ্ছিন্ন সংযোগ থাকা ভালো।
প্রায়ই জিজ্ঞাসিত প্রশ্ন
প্রশ্ন: ভারতীয় ভিসা আবেদন কেন্দ্র (IVAC) কোথায় অবস্থিত? উত্তর: ঢাকায় বারিধারার যমুনা ফিউচার পার্কে প্রধান কেন্দ্র রয়েছে। এছাড়া চট্টগ্রাম, রাজশাহী, সিলেট, খুলনা, বরিশাল, যশোর, সাতক্ষীরা, নোয়াখালী, কুষ্টিয়াসহ দেশের বিভিন্ন জেলায় কেন্দ্র চালু আছে। সর্বশেষ তালিকা ivacbd.com-এ পাওয়া যাবে।
প্রশ্ন: ভারতীয় ভিসার ফি কত? উত্তর: ভারত সরকার বাংলাদেশি নাগরিকদের কাছ থেকে কোনো ভিসা ফি নেয় না। তবে IVAC-এর প্রক্রিয়াকরণ সার্ভিস চার্জ ২০২৫ সালের ১০ আগস্ট থেকে ১,৫০০ টাকা (সব চার্জসহ)।
প্রশ্ন: অ্যাপয়েন্টমেন্টের জন্য কি অতিরিক্ত টাকা দিতে হয়? উত্তর: না। ১,৫০০ টাকার প্রক্রিয়াকরণ ফি ছাড়া অ্যাপয়েন্টমেন্ট স্লট পেতে বা ভিসা দ্রুত পেতে কোনো বাড়তি টাকা লাগে না। এমন দাবি করা প্রতারণা।
প্রশ্ন: অনলাইনে আবেদন না করে সরাসরি কেন্দ্রে গিয়ে কি আবেদন করা যায়? উত্তর: না। প্রথমে অনলাইন আবেদনপত্র পূরণ করে জমা দিতে হয়, তারপর সেটির স্বাক্ষরিত প্রিন্ট কপি সহায়ক কাগজপত্রসহ নির্ধারিত অ্যাপয়েন্টমেন্টের দিনে IVAC-এ জমা দিতে হয়।
প্রশ্ন: জরুরি চিকিৎসার জন্য কি দ্রুত ভিসা পাওয়া সম্ভব? উত্তর: ঢাকা, চট্টগ্রাম, রাজশাহী, সিলেট ও খুলনা কেন্দ্রে জরুরি চিকিৎসা ও অন্যান্য জরুরি ভিসার জন্য সীমিত সংখ্যক অ্যাপয়েন্টমেন্ট স্লট চালু রয়েছে। তবে সিদ্ধান্ত ও সময়সীমা ভারতীয় হাইকমিশনের ওপর নির্ভর করে।
প্রশ্ন: IVAC কি ভিসা অনুমোদন দেয়? উত্তর: না। IVAC শুধু আবেদন গ্রহণ, বায়োমেট্রিক সংগ্রহ ও পাসপোর্ট ফেরত দেওয়ার সেবা দেয়। ভিসা অনুমোদন বা প্রত্যাখ্যানের সিদ্ধান্ত ভারতীয় হাইকমিশন নেয়।
প্রশ্ন: ছুটির দিনে কি IVAC খোলা থাকে? উত্তর: সরকারি ও ধর্মীয় ছুটির দিনে সাধারণত বন্ধ থাকে। ঈদ, রমজানসহ বিশেষ সময়ে সূচিতে পরিবর্তন আসে, তাই অ্যাপয়েন্টমেন্টের আগে সর্বশেষ নোটিশ দেখে নিন।
প্রশ্ন: ভিসা প্রত্যাখ্যাত হলে কী করব? উত্তর: প্রত্যাখ্যানের কারণ বোঝার চেষ্টা করুন, কাগজপত্রের ঘাটতি বা তথ্যগত ভুল থাকলে তা সংশোধন করে নতুন করে আবেদন করতে পারেন। জাল কাগজ ব্যবহার করলে ভবিষ্যতে ভিসা পাওয়ার পথ বন্ধ হয়ে যেতে পারে।
উপসংহার
ভারতীয় ভিসা আবেদন কেন্দ্র বাংলাদেশিদের জন্য ভারতে যাওয়ার প্রথম ও প্রধান দরজা। ঢাকার যমুনা ফিউচার পার্ক থেকে শুরু করে দেশের বিভিন্ন জেলায় ছড়িয়ে থাকা কেন্দ্রগুলোর মাধ্যমে এখন অনেক সহজেই ভিসার আবেদন করা সম্ভব। মনে রাখুন, ভারত সরকার কোনো ভিসা ফি নেয় না, আপনাকে শুধু ১,৫০০ টাকার প্রক্রিয়াকরণ ফি দিতে হবে। এর বাইরে অ্যাপয়েন্টমেন্ট বা দ্রুত ভিসার নামে যে-কেউ টাকা দাবি করলে তা প্রতারণা হিসেবে ধরে নিন।
সঠিক ভিসা ক্যাটাগরি নির্বাচন, নির্ভুলভাবে অনলাইন ফরম পূরণ, প্রয়োজনীয় কাগজপত্র গুছিয়ে রাখা এবং অফিসিয়াল চ্যানেল ব্যবহার করলেই আপনার আবেদন প্রক্রিয়া মসৃণ হবে। আবেদনের আগে সবসময় ivacbd.com ও ভারতীয় হাইকমিশনের অফিসিয়াল পোর্টাল থেকে সর্বশেষ নোটিশ, ফি ও চেকলিস্ট যাচাই করে নিন।